অসংগঠিত শ্রমিক: অন্ধকারের রোজনামচা ( ৬ পর্ব)

Author
চন্দন মুখোপাধ্যায়

আজ নব্যউদার অর্থনৈতিক নীতিগুলি মোদী সরকারের পথপ্রদর্শকশক্তি,এবং বন্ধু পুঁজির স্বার্থে  তাই  MGNREGA  কেবল অপ্রয়োজনীয়ই নয় বরং দেশের তথাকথিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য একটি বাধাও মনে করে।

Unorganized workers chronicle of darkness
    ষষ্ঠ পর্ব



২০১৪ পর মোদী সরকার সাধারণ মানুষ,গরিবের জন্য ঝুড়িঝুড়ি প্রতিশ্রুতি দিয়ে  অসাংবিধানিক নির্বাচনী বন্ডের মাধ্যমে কর্পোরেটদের কাছ থেকে অনুদান এবং চাঁদা থেকে সংগৃহীত কোটিকোটি টাকার সাহায্যে প্রচারের তীব্র আলোয় 'সবকা সাথ সবকা বিকাশ" থেকে, 'মোদীরগ্যারান্টি' স্লোগান নিয়ে সরকারে এলো। নাগরিকদের  জীবন আরো অন্ধকারে তলিয়ে যেতে থাকলো। গ্রামীণ জনগণের আয় বৃদ্ধির 'মোদীরগ্যারান্টি'- কেন্দ্রীয় সরকারের গৃহীত নয়া উদারনৈতিক অর্থনৈতিক নীতি  কৃষিসংকটকে আরও গভীর করছে,যার ফলে গ্রামীণ ভারতে ব্যাপক বেকারত্ব দেখা দিচ্ছে।শ্রমিকের বিকল্প প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে কৃষিক্ষেত্রে কায়িক শ্রমের পরিমাণ ন্যূনতমপর্যায়ে নেমে এসেছে।২০১৩-১৪ থেকে২০১৮-১৯ পর্যন্ত প্রধান কৃষি ও অকৃষি পেশার মজুরি বার্ষিক ৩% হ্রাস পেয়েছে,বর্তমানে সেটা আরো বেড়ে চলেছে। গ্রামীণমজুরি হ্রাসের প্রধান কারণ ছিল নোটবাতিল, জিএসটি (পণ্যও পরিষেবা কর) চালু করা এবং এমজিএনরেগা সহ অনেক সামাজিকসুরক্ষা প্রকল্পের জন্য বাজেট বরাদ্দহ্রাস এবং ভর্তুকিতে হ্রাস। কোভিড-১৯ মহামারীর অনেক আগে ২০১৯সালের জুন থেকেই ভারত জুড়ে গ্রামীণ পেশার মজুরি বৃদ্ধির পরিবর্তে এই হ্রাস শুরু হয়েছিল।আইএলও-র একটি কার্যপত্রে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে গ্রামীণ ভারতীয় মজুরির ক্রয় ক্ষমতার নেতিবাচক প্রবণতার দিকেও ইঙ্গিত করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, "ভারতীয় শ্রম ব্যুরো কর্তৃক প্রকাশিত গ্রামীণ মাসিক মজুরি সূচকের সাথে মুদ্রাস্ফীতির তথ্যের উপর ভিত্তি করে, অর্থ মন্ত্রণালয় সাম্প্রতিক বছরগুলিতে গ্রামীণ ভারতীয় মজুরির ক্রয় ক্ষমতার নেতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করেছে।সুতরাং, ২০২২-২৩ সালের অর্থনৈতিক সমীক্ষায়, মন্ত্রণালয় এপ্রিল থেকে নভেম্বর ২০২২ এর মধ্যে উচ্চমুদ্রাস্ফীতির কারণে প্রকৃত গ্রামীণমজুরিতে (অর্থাৎ, মুদ্রাস্ফীতির জন্য সামঞ্জস্যপূর্ণ গ্রামীণমজুরি) নেতিবাচক বৃদ্ধির কথা তুলে ধরেছে"।ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংকের সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, বিজেপি শাসিত তিনটি রাজ্য গুজরাট, মধ্যপ্রদেশ এবং উত্তরপ্রদেশের শ্রমিকরা জাতীয় গড়ের চেয়ে অনেক কম দৈনিক মজুরি পাচ্ছেন। গুজরাটের কৃষি শ্রমিকরা দৈনিক মজুরি পান ২৪১.৯ টাকা,যেখানে  জাতীয় গড় ৩৪৫.৭ টাকার চেয়ে ১০০ টাকা কম। মধ্যপ্রদেশে সর্বনিম্ন মজুরি ২২১.৯টাকা। কিন্তু বাম  শাসিত কেরালা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি - কৃষি শ্রমিকদের জন্য ৭৬৪.৩ টাকাএবং নির্মাণ শ্রমিকদের জন্য ৮৫২.৫টাকা।এপ্রিলের এক আদেশে কেরালা সরকার  ২০২৫-২৬সালের রাজ্য বাজেটে তাদের মজুরি আরো ৫% বৃদ্ধির ঘোষণা করেছে।( সম্পূর্ণ সূত্র ও তালিকা আগে দেওয়া আছে)

গ্রামীণ দরিদ্রদের জীবিকা এবং গ্রামীণঅর্থনীতির জন্য MGNREGA এর গুরুত্ব প্রমাণিত হওয়া সত্ত্বেও,  মোদীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার এইপ্রকল্পটিকে ধ্বংস করার জন্য কাজ করছে। আজ নব্যউদার অর্থনৈতিক নীতিগুলি মোদী সরকারের পথপ্রদর্শকশক্তি,এবং বন্ধু পুঁজির স্বার্থে  তাই  MGNREGA  কেবল অপ্রয়োজনীয়ই নয় বরং দেশের তথাকথিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য একটি বাধাও মনে করে।মোদীসরকারের আমলে চাহিদা-ভিত্তিক এই কর্মসংস্থান প্রকল্পটি দুর্বল হয়ে পড়েছে অপর্যাপ্ত তহবিল, কম মজুরিরহার ,MGNREGAর কর্মী এবং স্থানীয় কর্মকর্তাদের নিরুৎসাহিত করা এবং সবচেয়েগুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, (অনলাইন)উপস্থিতি, (বর্ণ অনুসারে) তহবিলবরাদ্দ এবং এবিপিএস (আধার-ভিত্তিক অর্থপ্রদান ব্যবস্থা) মজুরি বিতরণে সাম্প্রতিক পরিবর্তনগুলি । শিক্ষাবিদ এবং কর্মীদের একটি কনসোর্টিয়াম "লিবটেকইন্ডিয়ার" দেওয়া তথ্য অনুসারে,গত ২১ মাসে সিস্টেমথেকে ৭.৬ কোটি জবকার্ড মুছে ফেলা হয়েছে।বিজেপি সরকারের MGNREGAর কেন্দ্রীয় বাজেটে  ক্রমাগত মোট বাজেটের অনুপাতে  সামগ্রিক বরাদ্দহ্রাস করা হচ্ছে । ২০১৩-১৪ সালে গ্রামীণকর্মসংস্থান প্রকল্পের মোট বাজেটের ১.৯৮% অংশ ছিল। এটি ২০২৩-২৪ সালের মোট বাজেটের ১.৩৩%-এ নেমে এসেছে।২০২৩-২৪ সংশোধিত প্রকল্পের তুলনায় বরাদ্দে কোনও বৃদ্ধি নেই  ।এই বছরের অন্তর্বর্তী বাজেটে,  MGNREGA-এরজন্য ৮৬,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে,যেখানে  গত বছরে, MGNREGA-তে মোট ব্যয় হয়েছে ₹  ৮৮,৩০৯.৭২ কোটি। ফলস্বরূপ, ১০০ দিনের কাজের নিশ্চয়তা থাকা সত্ত্বেও, মোদীসরকারের অধীনে ২০২০-২০২১সালের মহামারী (৫১.৫২ দিন)ছাড়া, MGNREGA-এর অধীনে প্রদত্ত গড় কর্মদিবস কখনও ৫০ অতিক্রমকরেনি। গতবছর, গড় কর্মদিবস ছিলমাত্র ৪৭।। MGNREGA-এর অধীনেশ্রমিকদের দৈনিক গড় মজুরি২০২১-২০২২ সালে ২০৮টাকা, ২০২২-২৩ টাকায়২১৬.৫৭ টাকা।এই বছরও,  মজুরিবৃদ্ধি খুবই সামান্য এবংপ্রকল্পের লক্ষ্য পূরণের জন্য অপর্যাপ্ত।২০০৫সালের MGNREGA আইনের ৬ নম্বরধারায় বলা  হয়েছে যে,১৯৪৮ সালের ন্যূনতম মজুরিআইনে যা কিছু থাকুকনা কেন, কেন্দ্রীয় সরকার বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আইনের উদ্দেশ্যে মজুরিরহার নির্দিষ্ট করতে পারে যা বিভিন্ন ক্ষেত্রের জন্য ভিন্ন হতেপারে। এইভাবে ঘোষিত মজুরি কৃষি শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরি আইনের অধীনে নিশ্চিত মজুরির চেয়ে কমহবে না। গ্রামীণউন্নয়ন ও পঞ্চায়েতি রাজসংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি তাদের প্রতিবেদনে(৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪ তারিখে সংসদেউপস্থাপিত) সুপারিশ করেছে যে ২০০৮সাল থেকে মজুরির পরিমাণ পর্যবেক্ষণ করে তারা মনে করেছে যে মজুরি অপর্যাপ্ত এবং জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। কেন্দ্রীয়সরকারের ন্যূনতম মজুরি সংক্রান্ত কমিটি",অনুপ সৎপথী কমিটিও সুপারিশ করেছিল যে MGNREGA অধীনে মজুরি ন্যূনতম ৩৭৫ টাকা/দিন হওয়া উচিত। মোদীসরকার গ্রামীণ উন্নয়ন ও পঞ্চায়েতি রাজসংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির অনুসন্ধান এবংসুপারিশ সম্পূর্ণরূপে উপেক্ষা করেছে এবং বৃহৎকর্পোরেট এবং জমিদারদের স্বার্থেকাজ করছে যারা নীতিগতভাবেMGNREGA-এর বিরোধী। নিম্ন আয় এবংবিশাল বেকারত্বের পরিস্থিতিতে, কৃষি শ্রমিকদের জীবন সমাজকল্যাণ রাষ্ট্রের কল্যাণমূলক প্রকল্প এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানেরউপর নির্ভরশীল।যেহেতু সমাজকল্যাণ রাষ্ট্রের সম্পূর্ণ ধারণাটি বিদেশী এবং ভারতীয় উভয় পুঁজির কাছেই অগ্রহণযোগ্য তাই  'মোদীরগ্যারান্টি'-র সরকার  সমাজকল্যাণ রাষ্ট্রের সম্পূর্ণ ধারণাটির পায়ে কুড়ুল মারতে চাইছে।স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সহ সরকারি ক্ষেত্র ব্যাপকভাবে বেসরকারিকরণ করা হচ্ছে, যা আমাদের বর্তমান এবং ভবিষ্যৎকে বিপন্নকরে তুলছে।সংকটএতটাই তীব্র যে কৃষি২০১৪ সাল থেকে মোট সরকারি হিসাবেই ৫০হাজারের ওপর   কৃষিশ্রমিক আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন। বিজেপির নীতিগুলি এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতি মোকাবেলায় মারাত্মকভাবে ব্যর্থ হয়েছে।

শুধু কৃষি শ্রমিক নয় সব অংশের অসংগঠিত শ্রমজীবী মানুষের জীবন প্রতিদিন দুর্বিসহ করে তুলছে এই সরকার।কোনোরকম উদ্যোগ নেওয়াতো দুরস্ত সব সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত করে ধনী বন্ধু মালিকদের সাহায্যে দেশের খাজাঞ্চিখানা খুলে দিতে চাইছে।আর তাই প্রাথমিক  যেকাজ অসংগঠিত শ্রমিক নথিভুক্তির কাজ,যার হাত ধরে এই বৃহৎ অংশের মানুষ সব সুযোগ সুবিধা পেতে পারে। সরকারে আসার আগে যার  জন্যে গলা ফাটিয়েছিলেন,সেটা বেমালুম ভুলে গেলেন।সুপ্রিমকোর্টের স্বতঃপ্রণোদিত মামলা২০২০-র জুন মাসে,  "প্রবলেম অ্যান্ড মিসিরিজ অফ মাইগ্র্যান্ট লেবার"বইতে , সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রীয় সরকারকে অসংগঠিত শ্রমিক/পরিযায়ী শ্রমিকদের নিবন্ধনের জন্য একটি পোর্টাল তৈরি করার নির্দেশ দেয়। এটি৩১ জুলাই, ২০২১ এরআগে কাজ শুরু করারএবং নিবন্ধনের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া "যত তাড়াতাড়ি সম্পন্নকরতে হবে, কিন্তু ৩১.১২.২০২১ এরপরে নয়" পদ্ধতিতে। ২৯শেজুন, ২০২১ , আদালত অসংগঠিত শ্রমিকদের ডাটাবেস তৈরির ক্ষেত্রে কঠোরভাবে বলেছে : "যখন অসংগঠিত শ্রমিকরা নিবন্ধনের জন্য অপেক্ষা করছে এবং রাজ্য ও কেন্দ্রের বিভিন্ন কল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা গ্রহণের জন্য অপেক্ষা করছে, তখন শ্রমও কর্মসংস্থান মন্ত্রকের উদাসীনতা এবং উদাসীন মনোভাব ক্ষমার অযোগ্য।" এতে আরও যোগ করাহয়েছে: “রাজ্য সরকার এবংকেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পে অভিবাসী শ্রমিকদের প্রবেশাধিকার প্রদানের জন্য, নিবন্ধন আবশ্যক।” বিচারপতি অশোক ভূষণ এবং এমআরশাহের বেঞ্চ ৩১ ডিসেম্বর,২০২১ তারিখের সময়সীমা নির্ধারণ করে নির্দেশ দিয়েছে,“সকল সংশ্লিষ্ট রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলএবং লাইসেন্সধারী/ঠিকাদার এবং অন্যান্যরা অভিবাসীশ্রমিক এবং অসংগঠিত শ্রমিকদেরনিবন্ধনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কেন্দ্রীয় সরকারেরসাথে সহযোগিতা করুন যাতে কেন্দ্রীয়সরকার/রাজ্য সরকার/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল কর্তৃক ঘোষিত কল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধাগুলি অভিবাসী শ্রমিক এবং অসংগঠিতশ্রমিকদের কাছে পৌঁছাতে পারে ।২৬শেআগস্ট, ২০২১ তারিখে, কেন্দ্রীয়সরকার অসংগঠিত শ্রমিকদের নিবন্ধনের জন্য ২০১৯-২০ অর্থ বছর থেকে ২০২৪-২৫অর্থ বছরের জন্য আনুমানিক ₹৭০৪কোটি টাকা ব্যয়ে ই-শ্রম, পোর্টাল-জাতীয় অসংগঠিত শ্রমিকদের ডাটাবেস (NDUW) চালু করে।ডাটাবেসটি আধারের সাথে সংযুক্ত। NDUW-তে  নাম,পেশা, ঠিকানা, পেশার ধরণ, শিক্ষাগতযোগ্যতা, দক্ষতার ধরণ, পরিবারের বিবরণ ইত্যাদির বিবরণ থাকবে ।পিএলএফএস তথ্য থেকে প্রাপ্তএবং সূত্রের মাধ্যমে গণনা করা অপ্রাতিষ্ঠানিক কর্মীর সংখ্যা যে বলা হচ্ছে তা কেবল একটি  অনুমান। এটি  কোনও আদমশুমারির তথ্যনয় তাই  বিভিন্ন রাজ্যে প্রকৃত অসংগঠিত কর্মীর মোট সংখ্যা  আনুমানিক অপ্রাতিষ্ঠানিক কর্মীর সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি সেটা নিশ্চিত করেই বলা যায়। বিভিন্ন রাজ্যের পরিসংখ্যান বেরোচ্ছে,সেখানে উত্তরপ্রদেশের পরিসংখ্যান থেকে এটি প্রমাণিত। উত্তরপ্রদেশে নিবন্ধনের হার ১০০ শতাংশেরও বেশি, যেটা নিশ্চিত করে প্রকৃত অসংগঠিত কর্মী আনুমানিক অসংগঠিত কর্মীর চেয়ে বেশি শুধু নয় এটি কৃত্রিমভাবে নিবন্ধনের হার বাড়িয়ে দিচ্ছে,কিন্তু আসলে কম মানুষ সুযোগ পাবে।
সংগঠিত এবং অসংগঠিত উভয় ধরণের শ্রমিকের জন্যই এই আইনগুলি তৈরি করা হয়েছে, কিন্তু শ্রম আইনের প্রযোজ্যতার শর্তগুলি এমন যে অসংগঠিত ক্ষেত্রের উন্নতি ছাড়া  পূরণ করা সম্ভব নয়। অসংগঠিত শ্রমিকরা সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা যেমন- পেনশন, গ্র্যাচুইটি, শ্রমিক ক্ষতিপূরণ, কর্মচারী রাষ্ট্রীয় বীমা থেকে বঞ্চিত, কর্মসংস্থান নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত আইন যেমন- কারখানা আইন, ১৯৪৮, শিল্প বিরোধ আইন, ১৯৪৭, চুক্তি কর্মী আইন, ১৯৭০, মাতৃত্বকালীন সুবিধা আইন, ১৯৬১ এর সুবিধা থেকে বঞ্চিত এবং তারা মজুরি নিয়মিততা প্রদানকারী আইন যেমন- মজুরি প্রদান আইন, ১৯৩৬ এবং ন্যূনতম মজুরি আইন, ১৯৪৮ এর সুবিধা থেকেও বঞ্চিত।

গত দশকে গোটা পৃথিবী থেকে এই ভারতের নতুন ক্রমবর্ধমান এক শ্রমজীবী অংশ  দ্রুত গতিতে বেড়েই চলেছে,গিগ কর্মী।শিক্ষিত যুব সমাজের সামনে নতুন পেশা হিসাবে এসেছে,কিন্তু কোনোরকম নিরাপত্তা নেই।আজ এই অংশকে অসংগঠিত তালিকায় তাদের যুক্ত করা হবে কিনা সেই নিয়ে আইনি লড়াইয়েও যেতে হয়েছে, মালিক কোম্পানিগুলোর স্বার্থের সাথে জুড়ে গিয়ে সরকারের সাথে। কিন্তু আজ অসংগঠিত অংশের শ্রমজীবী তালিকায় এই অংশের শ্রমজীবী মানুষের যুক্ত করার লড়াইটাও অত্যন্ত গুরুত্তপুর্ন, যাতে অসংগঠিত খাতে যে সামান্য সুবিধাটুকু পাওয়া যায় সেটুকু অন্তত যেন ওরা পেতে পারে। তাই এদের কথা ব্যাড দিয়ে অসংগঠিত শ্রমিকদের নিয়ে সব  আলোচনা অসম্পূর্ন থেকে যাবে। 


আগামীকাল সপ্তম পর্ব 

বিষয়ঃ গিগ কর্মী
            আজকের বিপদ শ্রম কোড

প্রকাশ: ১৬-জানুয়ারি-২০২৬

আপনার মতামত

এই লেখাটি সম্বন্ধে আপনার কেমন লাগলো আপনার মতামত জানতে আমরা আগ্রহী।
আপনার মতামত টি, সম্পাদকীয় বিভাগের অনুমতিক্রমে, পূর্ণ রূপে অথবা সম্পাদিত আকারে, আপনার নাম সহ এখানে প্রকাশিত হতে পারে।

This Is CAPTCHA Image

শেষ এডিট:: 19-Jan-26 09:36 | by 3
Permalink: https://cpimwestbengal.org/unorganized-workers-chronicle-of-darkness - exists in postID 32076
Categories: Fact & Figures
Tags: labour law, migrant workers, modi, laboure code
শেয়ার:
সেভ পিডিএফ:



লেখক/কিওয়ার্ড